Popular Posts

Popular Posts

Sunday, June 7, 2015

মোদি যাবেন, আসবেন কোহলিরা

ঢাকায় আজ এসে গেলেই ভালো
হতো ভারতীয় দলের জন্য।
বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত
যতগুলো বাংলাদেশের পতাকা
তারা দেখতে পেত, ঠিক ততগুলোই
দেখত ভারতের তেরঙ্গা পতাকাও।
যতবার দেখত বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাসি
মুখ, পাশেই দেখত নরেন্দ্র মোদির
শ্মশ্রুমণ্ডিত চেহারা।
কিন্তু আগেই জানিয়ে দেওয়া
হয়েছে, ভারত আজ আসছে না। নরেন্দ্র
মোদি আজ ঢাকা ছেড়ে যাবেন,
আগামীকাল আসবে বিরাট
কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় টেস্ট
দল। মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর
নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর চাপ
কমাতেই ধোনি-কোহলিদের এক
দিন পরে আসা। ভারতের টেস্ট দল
গতকালই কলকাতায় একত্র হয়েছে।
ঢাকার বিমানে ওঠার আগে
সেখানেই দুদিনের ফিটনেস ক্যাম্প।
কাল সকালে ঢাকায় এসে টেস্টের
আগে শুধু পরশুই অনুশীলন করবে ভারত,
আগে এমনই কথা ছিল। কিন্তু গত পরশু
রাতে বিসিসিআই থেকে আসা এক
জরুরি ফোন কলে বিসিবিকে
জানানো হয়, সকালে ঢাকায়
নেমে দুপুরেই কোহলিরা অনুশীলন
করতে চান এবং সেটাও একমাত্র
টেস্টের ভেন্যু ফতুল্লায়। কিন্তু ওই সময়
যে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে অনুশীলন
করবে বাংলাদেশ দলও! কাল দুপুরে
অনুশীলন করতে চাইলে তাই ভারতীয়
দলকে তা করতে হবে মিরপুরেই। তা-ও
মূল স্টেডিয়ামে নয়, একাডেমি
মাঠে। মূল স্টেডিয়ামে কাল-পরশু
দুদিনই আছে হাই পারফরম্যান্স
ইউনিটের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
ধোনি-কোহলিদের জন্য
অপেক্ষার মধ্যেই কাল গুরুত্বপূর্ণ টিম
মিটিং সেরে ফেলেছে
বাংলাদেশ দল। মিটিংয়ের বিষয়ে
অবশ্য নতুনত্ব নেই। সব সিরিজের আগেই
যা হয়, তেমন রুটিন মিটিংই।
বোলার-ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে
কোচিং স্টাফদের আলাদা
আলাদা সভায় ভারতীয় বোলার-
ব্যাটসম্যানদের ভিডিও ফুটেজ
বিশ্লেষণ করা হয়েছে। খোঁজা
হয়েছে তাদের দুর্বলতা আর
শক্তিমত্তার জায়গাগুলো। বিরাট
কোহলির যেমন দুর্বলতা আবিষ্কৃত
হলো অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে
ভেতরে ঢোকা বলে।
ব্যাটসম্যানদেরও দেখানো হলো
নতুন বা পুরোনো বলে ভারতীয়
বোলারদের কার কতটা দক্ষতা এবং
এ রকম আরও অনেক কিছুই।
টিম মিটিংয়ের বাইরে কাল শুধু
জিমই করেছেন ক্রিকেটাররা। তবে
মুশফিকুর রহিম ব্যতিক্রম। মিটিং
শেষে বেশ কয়েক ঘণ্টা ব্যাটিং
অনুশীলন করলেন ইনডোরের বাইরের
মাঠের নেটে। পাকিস্তানের
বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে
ব্যাটিংয়ে নিজের ছায়া
হয়েছিলেন। সেই অতৃপ্তি থেকেই
এবার বাড়তি কিছুর জন্য বাড়তি
পরিশ্রম।
ভারতের মতো দলের বিপক্ষে
ভালো কিছু পেতে হলে অবশ্য এই
বাড়তি পরিশ্রমটা করতে হবে দলের
সবাইকেই।

Saturday, June 6, 2015

‘মাশরাফি রিকশায় কেন?’

মাশরাফি আমাদের সম্পদ বলেই
অনেক বড় ঘটনাই ঘটতে পারত। দেশের
মানুষের আশীর্বাদেই কিনা, অল্পের
জন্য বেঁচে গেছেন মাশরাফি বিন
মুর্তজা। মিরপুরের শেরেবাংলা
স্টেডিয়ামের কাছেই বাসা হওয়ায়
বৃহস্পতিবার রিকশা করেই অনুশীলনে
আসছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে
অধিনায়ক। পথে একটি বেপরোয়া
বাস পেছন থেকে ধাক্কা দেয়
মাশরাফিকে। সতর্ক হয়ে রিকশায়
বসার কারণে নিজেকে কিছুটা
হলেও সামলাতে পেরেছিলেন।
কিন্তু আঘাত তিনি পেয়েছেনই।
মাশরাফির এই দুর্ঘটনাটা যেন
খেলোয়াড়দের জন্য এক ধরনের
সতর্কবার্তাই। জাতীয় ক্রিকেট দলের
সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশের
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল
ইসলামের চোখে অন্তত তা-ই। তিনি
মাশরাফির রিকশা ভ্রমণের
ব্যাপারেও নিজের বিরক্তি ও
বিস্ময় চেপে রাখতে পারেননি।
প্রথম আলোর সঙ্গে এক
আলাপচারিতায় তিনি বলেন,
‘ভারতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ
সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের একটু
সতর্ক থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। দুর্ঘটনার
ওপর আমাদের কারও কোনো হাত না
থাকলেও সেদিন মাশরাফির
রিকশায় করে অনুশীলনে আসাটা
আমি মেনে নিতে পারছি না। সে
হয়তো সরল মনেই রিকশায় চেপেছিল।
বাসা কাছে বলেই গাড়ি ব্যবহার
করতে চায়নি সে। কিন্তু দুর্ঘটনা তো
একটা ঘটেই গেল। গাড়িতে সে অন্তত
চোটটা এড়াতে পারত। মাশরাফির
মনে রাখা উচিত, সে আমাদের
গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’
মাশরাফির এই ঘটনা আমিনুলকে
ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ১৮ বছর আগের
এক সকালে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি
ট্রফিতে খেলতে যাওয়ার আগে
ক্যাম্প হচ্ছিল সাভারের
বিকেএসপিতে। সে সময়
বিকেএসপিতে সুযোগসুবিধার
ঘাটতি থাকার কারণে অনেক
সিনিয়র খেলোয়াড়ই সেখানে
থাকতে চাইতেন না। ব্যক্তিগত
গাড়ি নিয়ে সেখানে যাওয়াটা
ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ক্রিকেটে
পেশাদারির ছোঁয়াও তখন ঠিক
সেভাবে ছিল না। আইসিসি ট্রফির
মাস খানেক আগে বিকেএসপিতে
একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনায়
আহত হয়েছিলেন আমিনুলসহ আরও দু-
একজন ক্রিকেটার।
স্মৃতি হাতড়ে আমিনুল বললেন, ‘মণি
ভাইয়ের (এনামুল হক) গাড়ি সেদিন
আমাকে আঘাত করেছিল। অটো
গিয়ারের গাড়িতে তিনি কোনো
একটা গড়বড় করে ফেলেছিলেন। আমি
কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছিলাম।
একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল আমি বুঝি
আর আইসিসি ট্রফিটা খেলতে পারব
না। অথচ সতর্ক হলে খুব সহজেই এড়ানো
যেত ওই দুর্ঘটনাটি। নিজের গাড়ি
চালিয়ে সাভারে অনুশীলনে
যাওয়া আর ওখান থেকে ফেরার
ব্যাপারটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।’