১৯৮৩ সালে ১৮৩ রান করেও বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতে গিয়েছিল। প্রথম ইনিংস শেষ হবার পরও যে, নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনালে সামান্য কিছুটা আগ্রহ থাকলো তার কারনও ওই ইতিহাসই।
কিন্তু, প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখাতে পারলো না ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল। উল্টো, ১৯৯৯ সালের লর্ডস ফাইনালের পর অস্ট্রেলিয়াই আরেকটা একতরফা ফাইনালের জন্ম দিলো। সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে মাইকেল ক্লার্ককা যখন উল্লাস করছে তখনও ম্যাচের সতেরো ওভার এক বল বাকি। নিজেদের ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া।
অথচ, দিনের শুরুটা অন্যরকম হয়েই এসেছিল নিউজিল্যান্ডের। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) নিজের জন্মদিনে টসের জয়টা পেয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। অনুমিত ভাবেই তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে, সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো করে দিতে অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা সময় নেন মাত্র পাঁচ বল।
ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্ট্যাম্প উপড়ে জানান দিয়ে রাখেন দুই দলের পার্থক্য। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ফাইনালের টিকেট পাওয়া নিউজিল্যান্ড। রস টেলর আর গ্রান্ট এলিয়টের ১১১ রানের জুটি বাদ দিলে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে বলার মত আর কিছুই নেই।
এলিয়ট ৮৩ ও টেলর ৪০ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ান-পেসই বিপদ ডেকে আনে ব্ল্যাক ক্যাপদের। মিশেল জনসন আর জেমস ফকনার তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া মিশেল স্টার্ক নেন দুটি উইকেট।
জবাব দিতে নেমে মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই অ্যারন ফিঞ্চ কোন রান না করেই ফিরে গেলে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ ও মাইকেল ক্লার্ক মিলে সেই উত্তেজনাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ওপেনার ওয়ার্নার ৪৫ রান করেন। এরপর ১১২ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে ফেলেন ক্লার্ক ও স্মিথ। স্মিথ করেন ৫৬ রান।
নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংসে ৭৪ রান করে জয়ের অন্যতম নায়ক অধিনায়ক ক্লার্ক। ৩২ তম ওভারে ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেও শেষটা বিশ্বকাপ দিয়েই রাঙিয়ে গেলেন তিনি।
এমন বিদায় কে না চায়।
No comments:
Post a Comment