Popular Posts

Popular Posts

Friday, May 22, 2015

বাংলাদেশের সামনে ছয়ে ওঠার হাতছানি!

‘বাংলাদেশ তো এখন ওয়ানডে
র্যাঙ্কিংয়ের আটে...।’ প্রশ্নকর্তা
সাংবাদিককে থামিয়ে দিয়ে
তামিম ইকবাল বলেছিলেন, ‘আমার
মনে হয় আমরা সাতেই আছি। ওয়েস্ট
ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের রে​টিং
তো সমান।’
আসলেই তা-ই। সাতে থাকা ওয়েস্ট
ইন্ডিজের সমান ৮৮ রেটিং পয়েন্ট
বাংলাদেশের। মাশরাফি বিন
মুর্তজার দলের সামনে এখন ছয়ে উঠে
আসার একটা সম্ভাবনা ঝিলিক
দিচ্ছে। সমীকরণটা অবশ্য খানিকটা
জটিল।
সেই হিসাবে যাওয়ার আগে
বাংলাদেশ দলকে আগে নির্ভার
হওয়ার জন্য আরেকটা সুখবর দেওয়া
দরকার। আগামী বিশ্বকাপ সরাসরি
খেলতে র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে
থাকাটা খুবই জরুরি। ২০১৭ সালের ৩০
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ে
আটের ভেতরে থাকতে পারলে আর
বাছাই পর্ব খেলার ঝক্কিতে যেতে
হবে না বাংলাদেশকে। আপাতত আট
নম্বর জায়গাটি নিয়ে
বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াই নয়ে
থাকা পাকিস্তানের।
ছয় বছর পর দেশের মাটিতে ক্রিকেট
খেলতে চলেছে পাকিস্তান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে
সিরিজও আছে তাদের। বাংলাদেশ
যদি ভারতের বিপক্ষে ০-৩ ব্যবধানে
হেরেও যায়, আর পাকিস্তান যদি
জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হারায়;
তবুও রেটিং পয়েন্টে কোনো
পরিবর্তন আসবে না। পয়েন্টে
হেরফের হলেও বাংলাদেশের
রেটিং থাকবে ৮৮, পাকিস্তানের
৮৭।
ফলে রেটিং পয়েন্ট হারানোর ভয়
বাংলাদেশের নে​ই। বরং আছে
রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ।
সিরিজে বাংলাদেশ একটা ম্যাচ
জিতলে তাদের রেটিং হবে ৮৯,
দুটো ম্যাচ জিতলে ৯৩। আর
পাকিস্তানের মতো ভারতকেও
বাংলাওয়াশ করতে পারলে
রেটিং হয়ে যাবে ৯৬। বর্তমানে
ছয়ে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং
পয়েন্ট ৯৪।
সেই হিসাবে ভাবতে পারেন,
বাংলাওয়াশ করলেই তো
বাংলাদেশ ইংল্যান্ডকে টপকে
যাবে। না, কারণ কাছাকাছি সময়ে
ইংল্যান্ডও ওয়ানডে সিরিজ খেলবে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেটিও
নিজেদের দেশে। ৫ ম্যাচের সেই
সিরিজে ইংল্যান্ড যদি ২-৩
ব্যবধানে হেরে যায়, তাহলে ৬ নম্বর
জায়গাটি হয়ে যাবে
বাংলাদেশের। তখন বাংলাদেশের
রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৬, ইংল্যান্ডের
৯৪। গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ
নিউজিল্যান্ড যদি ৩-২ ব্যবধানে
সিরিজটা ইংল্যান্ডের কাছে
হারেও, তাতেও সুবিধা হবে
বাংলাদেশের। তখন বাংলাদেশ-
ইংল্যান্ড দুদলেরই রেটিং হবে সমান
—৯৬।
এসবই হিসাব করা হচ্ছে বাংলাদেশ
ভারতকে ধবল ধোলাই করবে ধরে
নিয়ে। কিন্তু যেমনটা আগেই বলা
হয়েছে, বাস্তবতা বিবেচনায়
বাংলাদেশ যদি ভারতকে ধবল
ধোলাই নাও করতে পারে, অসুবিধা
নেই। একেকটি জয় বাংলাদেশকে
এনে দেবে একেকটি গুরুত্বপূর্ণ
রেটিং পয়েন্ট। এভাবে ভাবলেও
তো চলে! সবচেয়ে বড় কথা, এর পরই
বাংলাদেশে খেলতে আসছে র্যা​
ঙ্কিংয়ের চারে থাকা দক্ষিণ
আফ্রিকা। তাদের বিপক্ষেও
বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট
বাড়ানোর সুযোগ তো থাকছেই।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে
সিরিজটি তাই বাংলাদেশের জন্য
ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো
ওয়ানডে সিরিজ নেই। কিন্তু এ বছর
বেশ ব্যস্ততায় কাটবে
বাংলাদেশের। ভারত, দক্ষিণ
আফ্রিকার পর আসবে অস্ট্রেলিয়াও। এ
বছর সেপ্টেম্বর ৩০-এর মধ্যে
র্যাঙ্কিংয়ের সাতে উঠে আসতে
পারলে বাংলাদেশের সামনে
মিলবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
খেলার সুযোগও।
র্যাঙ্কিংয়ের সেরা সাত দল ও
স্বাগতিক ইংল্যান্ড মিলে হবে এই
টুর্নামেন্টটি। ২০১৯ বিশ্বকাপও
যেহেতু ইংল্যান্ডে, চ্যাম্পিয়নস
ট্রফি হতে পারে বিশ্বকাপের ‘মহড়া’
টুর্নামেন্ট। সেই টুর্নামেন্টে খেলার
অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই কাজে দেবে
বিশ্বকাপে।

No comments:

Post a Comment